গাইড

বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা কীভাবে বিশ্ববিদ্যালয় বেছে নেয়: তথ্য কী বলে

সরকারি আগে, বিজ্ঞান ইউনিটে ভিড়, মেডিকেলে আসনপ্রতি ২০+ আবেদন। চাহিদার তথ্য কী বলে এবং বিষয় ধরে কীভাবে তালিকা করবেন।

বাংলাদেশের বেশির ভাগ ভর্তিচ্ছু আগে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ খোঁজে, আর ক্যাম্পাসের নামের আগে ঠিক করে নেয় কোন বিষয়ে পড়বে। চাহিদার তথ্যে দেখা যায়, বিজ্ঞান ইউনিটে ভিড় সবচেয়ে বেশি, সরকারি মেডিকেলের প্রতিটি আসনের জন্য লড়ছে ২০ জনেরও বেশি, আর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয় প্রধানত তারা, যারা সরকারি আসন পায়নি। তাই বিষয় ধরে তালিকা করা, অনুমোদন ও স্বীকৃতি যাচাই করা এবং প্রতিটি র‍্যাঙ্কিংয়ের সংস্করণ ও সাল দেখে পড়াই সবচেয়ে কাজের পথ।

নিচের সংখ্যাগুলো সংবাদ প্রতিবেদন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞপ্তি এবং ইউজিসির বার্ষিক প্রতিবেদন থেকে নেওয়া। উলকা ক্যাম্পাস এগুলো সংগ্রহ করেছে ২০২৬ সালের ২ অক্টোবর। সংখ্যাগুলো আবেদনকারী ও আসনের হিসাব, মানের হিসাব নয়। কোনো ইউনিটে ভিড় বেশি মানে সেই বছর শিক্ষার্থীরা সেটা চেয়েছিল। সেটা আপনার জন্য ঠিক কি না, তা এর থেকে বোঝা যায় না।

সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ই প্রথম পছন্দ

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে ২০১৯ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ই সাধারণত প্রথম পছন্দ, এবং ছাত্রীদের তুলনায় ছাত্ররা এদিকে বেশি ঝোঁকে। ২০১৫ সালের আরেকটি গবেষণা বলছে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বেছে নেওয়ার সময় শিক্ষার মান ছিল সবচেয়ে বড় বিবেচনা। দুটো মিলিয়ে একটি পরিচিত ছবি পাওয়া যায়: অনেকে সরকারি আসন না পেয়ে বেসরকারিতে ভর্তি হন, তারপর সেখানে পড়ানোর মান দেখেই সিদ্ধান্ত নেন।

ভর্তির সংখ্যাও একই দিকে ইঙ্গিত করে। ইউনিভার্সিটি ওয়ার্ল্ড নিউজ ২০২৩ সালে জানিয়েছিল, ২০১৮ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ১৪.৩ শতাংশ কমেছে। ওই প্রতিবেদনে ইউজিসির সাবেক চেয়ারম্যান এর কারণ হিসেবে মানের প্রশ্ন, খরচ এবং নতুন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় চালুর কথা বলেছেন। তবে সীমাবদ্ধতাও মনে রাখা দরকার। এটি তিন বছরের একটি পতনের হিসাব, আর কোন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কী অবস্থা ছিল, তা এখান থেকে জানা যায় না। একে পুরো খাতের একটি সংকেত ভাবুন, কোনো একটি ক্যাম্পাসের রায় নয়।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণত প্রতিযোগিতামূলক ভর্তি পরীক্ষা হয় না, তাই সেখানকার আসনপ্রতি আবেদনকারীর হিসাব নেই। এটি প্রকাশ্য তথ্যের ঘাটতি, চাহিদা কম থাকার প্রমাণ নয়। বেসরকারি বিকল্প তুলনা করতে চাইলে ইউজিসির বার্ষিক প্রতিবেদন দেখতে পারেন। সেখানে ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের জন্য প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ভর্তি ও মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা আছে, বিশ্ববিদ্যালয় নিজে যেভাবে জানিয়েছে সেভাবেই। এই সংখ্যা আকার ও গতিমুখ দেখায়, আর ভর্তি কমে গেলে ভর্তি অফিসকে সে বিষয়ে প্রশ্ন করা যুক্তিসংগত।

বিজ্ঞান ইউনিটে ভিড় বেশি, তবে শুধু সেখানে নয়

যেখানে আসনপ্রতি আবেদনকারীর হিসাব প্রকাশিত, সেখানে বিজ্ঞান ইউনিট সাধারণত শীর্ষে বা তার কাছাকাছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞান ইউনিটে (ক) ২০২৩-২৪ সালে ১,৮৫১টি আসনের জন্য আবেদন পড়েছিল ১,২২,০৮০টি, অনুপাত ৬৬। ২০২৪-২৫ সালে ১,৮৯৬টি আসনে আবেদন ছিল ১,৪৬,৬৯৪টি, অর্থাৎ আসনপ্রতি ৭৭.৪ জন। ২০২৫-২৬ সালে ১,৮৫১ আসনে আবেদন ছিল ১,১৯,০০০, অর্থাৎ আসনপ্রতি ৬৪.৩ জন।

অন্য ক্যাম্পাসে অনুপাত আরও বেশি। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৫-২৬ সালে জীববিজ্ঞান ইউনিটে (ডি) আসনপ্রতি আবেদনকারী ছিল ২২৬.৫ জন, আর গণিত, পদার্থবিজ্ঞান ও আইআইটি ইউনিটে (এ) ছিল ১৪১.৭ জন। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে একই বছর ‘এ’ ইউনিটে আসনপ্রতি ছিল ৫৩.৬ জন। ২০২৫-২৬ সালের সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ইউনিটে ১,০৯৩ আসনের বিপরীতে আবেদন করেছিলেন ৮৭,৬৯৪ জন, আসনপ্রতি প্রায় ৮০।

ছবিটা শুধু বিজ্ঞানের নয়। চট্টগ্রামে কলা ও মানবিক ইউনিটে (বি) ২০২৫-২৬ সালে আসনপ্রতি ছিল ১০০.৪ জন, যা বিজ্ঞান ইউনিটের চেয়েও বেশি। জাহাঙ্গীরনগরের ‘সি’ ইউনিটে (কলা, মানবিক, আইন) ছিল ১০১.৯ জন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিটে (খ) আসনপ্রতি ছিল ৩৭.৫ জন, আর ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটে (গ) ৩৩.৬ জন। আপনার প্রথম পছন্দ যদি নামকরা সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিষয় হয়, তবে সুযোগ পাওয়া কঠিন ধরে নিয়ে বাস্তবসম্মত বিকল্পও তালিকায় রাখুন।

মেডিকেল ও জাতীয় ভর্তি পরীক্ষা

আসনের তুলনায় আকাঙ্ক্ষা কত বেশি, মেডিকেল ভর্তিতে তা সবচেয়ে স্পষ্ট। সরকারি মেডিকেল কলেজের জাতীয় পরীক্ষায় ২০২২-২৩ সালে ৪,৩৫০টি সরকারি আসনের জন্য আবেদন ছিল ১,৩৮,০০০, আসনপ্রতি ৩১.৭ জন। ২০২৩-২৪ সালে ৫,৩৮০ আসনে আবেদন ছিল ১,০৪,০৪৪ (আসনপ্রতি ১৯.৩ জন)। ২০২৪-২৫ সালে ৫,৩৮০ আসনে আবেদন বেড়ে হয় ১,৩৫,২৬১ (আসনপ্রতি ২৫.১ জন), আর ২০২৫-২৬ সালে ৫,৬৪৫ আসনে আবেদন ছিল ১,২২,৬৩২ (আসনপ্রতি ২১.৭ জন)। তথ্যগুলো প্রথম আলো, বিডিনিউজ২৪সহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে নেওয়া।

চাহিদার সূচক হিসেবে শুধু সরকারি আসনের অনুপাতই অর্থবহ। বেসরকারি কলেজে কয়েক হাজার এমবিবিএস আসন আছে, তাই সব আসন ধরে হিসাব করলে (২০২৫-২৬ সালে প্রায় ৯.৪) দুটি আলাদা বাজার মিশে যায়। ২০২৫-২৬ সালের আবেদনকারীদের প্রায় ৬০ শতাংশ নারী: ৭৩,৬০৪ জন নারী, পুরুষ ৪৯,০২৮ জন।

মেডিকেলের পথ ভাবলে শুধু শহরের নাম নয়, নির্দিষ্ট কলেজটি দেখুন। উলকা সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজের খাত, বিভাগ ও এমবিবিএস আসনসংখ্যা দেখায়, একটি প্রকাশিত তালিকা থেকে নেওয়া। উলকার মেডিকেল র‍্যাঙ্কিং এখনো নেই, আর কলেজভিত্তিক মেধাক্রম আমরা কোনো সংগ্রহযোগ্য উৎসে পাইনি। তাই কোন কলেজ একেবারে শীর্ষ মেধাবীদের নেয়, তথ্য থেকে তা বলা যাচ্ছে না।

ব্যবসায় শিক্ষা, আইবিএ ও প্রকৌশল

তথ্যের মধ্যে সবচেয়ে প্রতিযোগিতাপূর্ণ একক ইউনিট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন। ২০২৫-২৬ সালে আইবিএ-তে ১২০ আসনের জন্য আবেদন ছিল ১১,১৪৭, আসনপ্রতি ৯২.৯ জন। একই সংবাদ প্রতিবেদনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ইউনিট ৬৩.৬ এবং চারুকলা ৬৩.৫। জাহাঙ্গীরনগরের আইবিএ-জেইউ ইউনিটে ২০২৫-২৬ সালে আসনপ্রতি ছিল ১০৮.২ জন।

বুয়েটের বাইরেও প্রকৌশলের চাহিদা জোরালো। বুয়েটের সংখ্যাটি বাছাই করা পরীক্ষার্থীর (২০২৫-২৬ সালে ১,৩০৯ আসনে ১০,৩৫১ জন), তাই অন্য জায়গার মোট আবেদনের সঙ্গে তুলনা চলে না। অন্য প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ সালের হিসাব: কুয়েটে ১,০৬৫ আসনে ২৪,৫২৭ জন (আসনপ্রতি ২৩, আগের রেকর্ড ১৩,১০০ ছাড়িয়ে), রুয়েটে ১,২৩৫ আসনে ১৮,২৭৭ জন (১৪.৮), এবং চুয়েটে ৯৩১ আসনে ১৩,৯৪২ জন (১৫)। বুয়েটে সুযোগ না পেলেও সরকারি প্রকৌশলে একাধিক পথ খোলা থাকে, আর প্রতিটিতেই প্রতিযোগিতা আছে।

আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে কিউএস ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‍্যাঙ্কিংস বাই সাবজেক্ট ২০২৬ বুয়েটকে বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশলে ৩০১-৩৫০ এবং যান্ত্রিক প্রকৌশলে ৩৫১-৪০০ ব্যান্ডে রেখেছে। নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় বৈদ্যুতিক প্রকৌশলে ৪০১-৪৫০ ব্যান্ডে। এগুলো একটি সংস্করণের ব্যান্ড, আর কিউএস বাংলাদেশের যেসব বিষয়ে তালিকা করেছে, শুধু সেগুলোই এখানে আছে।

গুচ্ছ ভর্তি ও মাইগ্রেশন

কয়েকটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় একটি যৌথ গুচ্ছ পরীক্ষার (জিএসটি) মাধ্যমে ভর্তি নেয়, যাতে একটি পরীক্ষায় অনেক ক্যাম্পাসে আবেদন করা যায়। ২০২৩-২৪ সালে গুচ্ছে আবেদনকারী ছিলেন ৩,০৫,৩৪০ জন, এর মধ্যে বিজ্ঞান গ্রুপে ১,৭০,৫৯৩ জন। ২০২৫-২৬ সালে মোট ২,৭৩,৫৫৪ জন, বিজ্ঞানে ১,৫৯,১৮৯ জন। সদস্য তালিকা সবসময় এক থাকেনি। ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে ডেইলি ক্যাম্পাসের প্রতিবেদন অনুযায়ী সাতটি বিশ্ববিদ্যালয় জিএসটির বাইরে ছিল: জগন্নাথ, খুলনা, কুমিল্লা, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, বুয়েট, চুয়েট ও রুয়েট। আরেকটি প্রতিবেদনে মন্ত্রণালয়ের চাপ সত্ত্বেও চারটির বেরিয়ে যাওয়ার কথা আছে, তাই কোনো তালিকায় ভরসা করার আগে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।

গুচ্ছের চাহিদা পুরো দলের, কোনো একটি সদস্যের নয়। একটি বিশ্ববিদ্যালয়কে পুরো গুচ্ছের আকর্ষণের কৃতিত্ব দেওয়া যায় না। গুচ্ছে আবেদন করলে বিষয় পছন্দের তালিকা মন দিয়ে পড়ুন, কারণ একই নম্বর খুব ভিন্ন ভিন্ন বিভাগে পৌঁছাতে পারে।

মাইগ্রেশনও গুরুত্বপূর্ণ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৪-২৫ সালে মাইগ্রেশন ও অপেক্ষমাণ তালিকার পর ৬০ থেকে ৮০টি আসন ফাঁকা ছিল বলে জানা যায়, বেশি ফাঁকা ছিল তুলনামূলক কম চাহিদার বিভাগে, যেমন লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি। যিনি আগ্রহ নেই এমন বিভাগে আসন নেন, পরে তিনি আরও মানানসই কোথাও চলে যেতে পারেন। আগে বিষয় বেছে নেওয়ার যুক্তি এটাই।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেদনকারীর সংখ্যা কেন ওঠানামা করে

বছরে বছরে আবেদনকারীর মোট সংখ্যা স্থির থাকে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৩-২৪ সালে আবেদন ছিল ২,৭৮,৯৯৬, ২০২৪-২৫ সালে ৩,২৯,৪৩৮ এবং ২০২৫-২৬ সালে প্রায় ২,৮৪,২১৬, অর্থাৎ শেষ বছরে প্রায় ৪৫,০০০ কম। আসনসংখ্যা প্রায় একই ছিল, তাই আসনপ্রতি আবেদনকারী ২০২৪-২৫ সালের ৫৫ থেকে কমে ২০২৫-২৬ সালে হয় ৪৬.৪।

শিক্ষার্থীর জন্য শিক্ষা হলো, গত বছরের ‘নিরাপদ’ বা ‘অসম্ভব’ তকমা হুবহু নকল না করা। এক বছর যে ইউনিট নাগালের বাইরে মনে হয়েছিল, পরের বছর সেটা সহজ হতে পারে। দুই-তিন বছরের অনুপাত দেখুন, আর একক সংখ্যাকে একটি মুহূর্তের চিত্র ভাবুন। আরও মনে রাখুন, আবেদন আর মানুষ এক জিনিস নয়। একজন শিক্ষার্থী একাধিক ইউনিটে ও একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করতে পারেন, তাই গণনায় দ্বিগুণ হিসাব থাকে।

সংজ্ঞাও গুরুত্বপূর্ণ। অনুপাত তখনই অর্থবহ, যখন ভাজ্য ও ভাজক একই জিনিস বোঝায়। বাছাই করা পরীক্ষার্থী, মোট আবেদন এবং সরকারি আসনের জন্য আবেদনকারী আলাদা গণনা, আর একটির পাশে আরেকটি বসালে শিরোনাম বিভ্রান্তিকর হতে পারে।

র‍্যাঙ্ক নয়, বিষয় ধরে তালিকা করুন

চার বছর যে বিষয় পড়তে চান, সেটা দিয়ে শুরু করুন, তারপর যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে সেটা আছে তাদের তালিকা করুন। বিভাগ তুলনা করুন, প্রথম পাতার নাম নয়। একটি শক্তিশালী বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো বিভাগ দুর্বল হতে পারে, আবার কম পরিচিত বিশ্ববিদ্যালয়েও প্রতিষ্ঠিত প্রোগ্রাম থাকতে পারে।

উলকার তথ্য দিয়ে এটা হাতেকলমে করা যায়। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের পাতায় বিষয়ের ক্ষেত্র অনুযায়ী প্রোগ্রাম সাজানো থাকে, আর তুলনার পাতায় দুটি প্রতিষ্ঠান পাশাপাশি দেখা যায়। যেমন বুয়েট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় অথবা জাহাঙ্গীরনগর ও ঢাকা। এখানে দুই পক্ষের র‍্যাঙ্কিং অবস্থান, প্রোগ্রাম ও সংরক্ষিত মেট্রিক দেখা যাবে।

সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে ছয় থেকে আটটি প্রোগ্রামের তালিকা, যার অন্তত দুটিতে ভর্তি হওয়ার ব্যাপারে আপনি নিশ্চিত, দশটি বিখ্যাত নামের ক্রমতালিকার চেয়ে বেশি কাজে লাগে। ফল আসার আগেই সবচেয়ে নিরাপদ বিকল্পগুলো লিখে রাখুন, যাতে হতাশাজনক ফল পেলে প্রথম যে প্রস্তাব আসে, তাতেই ঢুকে পড়তে না হয়।

অনুমোদন, স্বীকৃতি ও র‍্যাঙ্কিং যাচাই

কোনো টাকা জমা দেওয়ার আগে নিশ্চিত হোন যে বিশ্ববিদ্যালয়টি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অনুমোদিত এবং আপনার কাঙ্ক্ষিত প্রোগ্রামটি সেখানে চালু আছে। ইউজিসি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোফাইলসহ বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে, আর উলকা প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের জন্য সেখানকার প্রধান সংখ্যাগুলো সালসহ দেখায়।

প্রকৌশলের ক্ষেত্রে জিজ্ঞেস করুন, নির্দিষ্ট ডিগ্রিটি বিএইটিই, অর্থাৎ বোর্ড অব অ্যাক্রেডিটেশন ফর ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনিক্যাল এডুকেশনের স্বীকৃতিপ্রাপ্ত কি না। স্বীকৃতি প্রোগ্রামের, পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের নয়। আমাদের তথ্যে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএসসি ইন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং এবং বিএসসি ইন ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিএইটিই-স্বীকৃত হিসেবে তালিকাভুক্ত, আর বুয়েটের তালিকাভুক্ত প্রোগ্রাম বিএসসি ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং। এগুলো আমাদের কাছে থাকা তথ্য, তাই সিদ্ধান্তের আগে বিশ্ববিদ্যালয় ও স্বীকৃতিদাতা সংস্থার কাছে বর্তমান অবস্থা যাচাই করে নিন।

র‍্যাঙ্কিং পড়ার সময় সংস্করণ ও সাল খুঁজে নিন। উলকা র‍্যাঙ্কিং ২০২৭ ২০২৬ সালের ৫ অক্টোবর প্রকাশিত, তথ্য ২ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত। এতে বুয়েট প্রথম এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দ্বিতীয়। ১ থেকে ১৪ নম্বর অবস্থান উলকার ভর্তি প্রতিযোগিতার মূল্যায়নের প্রতিফলন। বাকি অবস্থান প্রকাশিত উলকা পদ্ধতি ২০২৭.১ থেকে গণনা করা। আন্তর্জাতিক তালিকা আবার অন্য জিনিস মাপে: দেখুন কিউএস ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‍্যাঙ্কিংস ২০২৭ এবং টাইমস হায়ার এডুকেশন ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‍্যাঙ্কিংস ২০২৭। একটি তালিকায় থাকা বিশ্ববিদ্যালয় অন্যটিতে না-ও থাকতে পারে, কারণ প্রতিটির অন্তর্ভুক্তির নিয়ম ও ওজন আলাদা।

ক্যাম্পাস দেখতে গিয়ে যেসব প্রশ্ন করবেন

সরেজমিনে গেলে এমন কিছু জানা যায়, যা কোনো তালিকা বলে না। ছোট একটি লিখিত প্রশ্নপত্র নিয়ে যান এবং বিভাগের কাছ থেকেই নির্দিষ্ট উত্তর চান।

  • এই প্রোগ্রামটি কি ইউজিসির অনুমোদিত এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার স্বীকৃতিপ্রাপ্ত? কাগজ দেখতে চান।
  • গত বছর এই বিভাগে কতজন ভর্তি হয়েছে, আর শেষ বর্ষে কতজন আছে?
  • বিভাগে কতজন পূর্ণকালীন শিক্ষক, তাঁদের কতজনের পিএইচডি আছে?
  • প্রথম দুই বছরে কোন ল্যাব বা স্টুডিও ব্যবহার করব, সেগুলো কি অন্য বিভাগের সঙ্গে ভাগাভাগি করা?
  • এই প্রোগ্রামের স্নাতকরা পাশ করার প্রথম বছরে কী করেন? নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান বা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম জানতে চান।
  • বিভাগ বদল বা ক্রেডিট স্থানান্তরের নিয়ম কী, যদি আমি অন্য কোথাও যাই?

উত্তরগুলো লিখে রাখুন এবং তালিকার সব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন। প্রতিটি ক্যাম্পাসে একই প্রশ্ন করুন, যাতে উত্তরগুলো তুলনাযোগ্য হয়। তারপর র‍্যাঙ্কিং ও তুলনার পাতা দিয়ে যা শুনেছেন তা যাচাই করুন, এবং যে প্রোগ্রামে সব প্রমাণ একমত, সেটিই বেছে নিন।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় বাছাইয়ে প্রথমে কী দেখে?

জরিপের তথ্য বলছে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ই প্রথম পছন্দ, আর চাহিদার তথ্যে দেখা যায় বিজ্ঞান, মেডিকেল ও আইবিএ-র মতো নির্দিষ্ট ইউনিটে ভিড় বেশি। অনেক বেসরকারি শিক্ষার্থী সরকারি আসন না পেয়ে ভর্তি হন।

সরকারি এমবিবিএস আসনপ্রতি কতজন প্রতিযোগিতা করে?

সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী জাতীয় পরীক্ষায় সরকারি আসনপ্রতি আবেদনকারী ছিল ২০২২-২৩ সালে ৩১.৭, ২০২৩-২৪ সালে ১৯.৩, ২০২৪-২৫ সালে ২৫.১ এবং ২০২৫-২৬ সালে ২১.৭ জন। বেসরকারি আসন যোগ করে হিসাব করলে চাহিদার সঠিক চিত্র পাওয়া যায় না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন ইউনিটে ভর্তি সবচেয়ে কঠিন?

২০২৫-২৬ সালে আইবিএ-তে আসনপ্রতি আবেদনকারী ছিল ৯২.৯ জন (১২০ আসনে ১১,১৪৭ জন)। একই সংবাদ প্রতিবেদনে বিজ্ঞান ইউনিট ৬৩.৬ এবং চারুকলা ৬৩.৫।

র‍্যাঙ্কিং দেখে বেছে নেব, নাকি প্রোগ্রাম দেখে?

আগে প্রোগ্রাম দেখুন। র‍্যাঙ্কিং সংস্করণ ও পদ্ধতিভেদে আলাদা হয়, আর স্বীকৃতি থাকে ডিগ্রির, তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান যা-ই হোক, বিভাগ শক্তিশালী বা দুর্বল হতে পারে।

প্রকৌশল প্রোগ্রাম স্বীকৃত কি না কীভাবে জানব?

বিভাগের কাছে বিএইটিই স্বীকৃতির নথি চান এবং স্বীকৃতিদাতা সংস্থার কাছে যাচাই করুন। উলকা প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের জন্য তাদের কাছে থাকা বিএইটিই প্রোগ্রাম দেখায়, তবে অবস্থা বদলাতে পারে।

গুচ্ছ (জিএসটি) ভর্তি কী?

এটি একদল সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ ভর্তি পরীক্ষা। ২০২৩-২৪ সালে এতে আবেদন ছিল ৩,০৫,৩৪০ এবং ২০২৫-২৬ সালে ২,৭৩,৫৫৪, আর সদস্য বিশ্ববিদ্যালয় বছরে বছরে বদলেছে।

উলকা র‍্যাঙ্কিং ২০২৭ কি একমাত্র র‍্যাঙ্কিং, যা দেখা দরকার?

না। কিউএস ও টাইমস হায়ার এডুকেশনের সংস্করণের সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন, কারণ সেগুলো ভিন্ন জিনিস মাপে, এবং সবসময় সংস্করণ ও সাল দেখুন। উলকা র‍্যাঙ্কিং ২০২৭ প্রকাশিত হয় ২০২৬ সালের ৫ অক্টোবর, তথ্য ২ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত।

ক্যাম্পাস দেখতে গিয়ে কী জিজ্ঞেস করব?

ইউজিসি অনুমোদন ও স্বীকৃতির নথি, বিভাগের ভর্তির সংখ্যা, পূর্ণকালীন শিক্ষকসংখ্যা, ল্যাব ব্যবহারের সুযোগ, স্নাতকদের পরিণতি ও স্থানান্তরের নিয়ম জানতে চান, এবং প্রতিটি ক্যাম্পাসে একই প্রশ্ন করুন।

সব গাইড