গাইড
বাংলাদেশের সেরা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়: ২০২৭ র্যাঙ্কিং ও ভর্তি প্রতিযোগিতা
উলকা র্যাঙ্কিং ২০২৭, কিউএস ও THE তালিকায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং গুচ্ছ ও ইউনিটভেদে আসনপ্রতি আবেদনকারী।
এই পাতায়
উলকা র্যাঙ্কিং ২০২৭-এর পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় তালিকায় এক নম্বরে আছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)। তার পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। তবে ভর্তির প্রতিযোগিতা অন্য হিসাবে চলে। প্রকাশিত তথ্যে আসনপ্রতি সবচেয়ে বেশি চাপ দেখা যায় কয়েকটি বড় ইউনিটে এবং গুচ্ছ পরীক্ষায়, র্যাঙ্কিংয়ের প্রথম কয়েকটি ঘরে নয়। এই লেখায় র্যাঙ্কিংয়ের পাশে আসনপ্রতি আবেদনকারীর হিসাব রাখা হয়েছে, প্রতিটি সংখ্যার সঙ্গে সেশন ও তথ্যসূত্রের ধরন উল্লেখ করে।
উলকা পাবলিক তালিকা কীভাবে তৈরি
উলকা র্যাঙ্কিং ২০২৭ প্রকাশিত হয়েছে ৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে, তথ্য নেওয়া হয়েছে ২ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকার ক্রম এ রকম: বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট), চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট), রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট), জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি), বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস, বাংলাদেশ মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এবং ১৪ নম্বরে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়।
১ থেকে ১৪ নম্বর অবস্থান উলকার ভর্তি-প্রতিযোগিতা মূল্যায়নের প্রতিফলন। ১৫ নম্বর থেকে ক্রম বের করা হয়েছে প্রকাশিত উলকা পদ্ধতি (সংস্করণ ২০২৭.১) অনুযায়ী। ১৫ নম্বরে ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ, ১৬ নম্বরে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ১৭ নম্বরে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। ৩১ থেকে ৪০ নম্বর পাবলিক তালিকায় একটি ব্যান্ড হিসেবে দেখানো হয়।
একটা কথা পরিষ্কার থাকা ভালো। প্রথম চৌদ্দটি অবস্থান বোঝায় ভর্তি কতটা প্রতিযোগিতামূলক, গবেষণা বা পাঠদানের মান নয়। চৌদ্দের নিচের অবস্থানগুলো পদ্ধতি থেকে এসেছে এবং প্রতিটির নিজস্ব স্কোর আছে।
বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়
দুটি বিশ্ব তালিকা আরেকটি দিক দেখায়। ১৮ জুন ২০২৬ প্রকাশিত কিউএস ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র্যাঙ্কিং ২০২৭-এ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যৌথভাবে ৬০০ নম্বরে এবং বুয়েট ৭১১-৭২০ ব্যান্ডে। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, চুয়েট, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, কুয়েট, শাবিপ্রবি ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় আছে ১৪০১+ ব্যান্ডে।
৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ প্রকাশিত টাইমস হায়ার এডুকেশন (THE) ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র্যাঙ্কিং ২০২৭-এর চিত্র ভিন্ন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ৮০১-১০০০ ব্যান্ডে। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ১০০১-১২০০ ব্যান্ডে। বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও শাবিপ্রবি আছে ১২০১-১৪০০ ব্যান্ডে। চুয়েট, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রুয়েট ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ১৪০১-১৬০০ ব্যান্ডে। চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় এবং শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় "Reporter" হিসেবে তালিকাভুক্ত।
কিউএস ও THE তালিকার পার্থক্য কোনো ভুল নয়। দুই প্রতিষ্ঠান গবেষণা, সুনাম ও পাঠদানের সূচককে আলাদা ওজন দেয়, আর কোন প্রতিষ্ঠান তালিকায় আসবে তাও আলাদাভাবে ঠিক করে। কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে একক সংখ্যার বদলে ব্যান্ড থাকলে ওই ব্যান্ডই পুরো বক্তব্য।
এশিয়া তালিকা
৫ নভেম্বর ২০২৫ প্রকাশিত কিউএস এশিয়া ২০২৬ সংস্করণে অনেক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের একক অবস্থান আছে: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৩২, বুয়েট ১৬৫, জাহাঙ্গীরনগর ৩০৪, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ৩১২, শাবিপ্রবি ৩৩৭, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ৩৭৮, চুয়েট ৩৮৫, কুয়েট ৪১৪, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ৪৫৪, রুয়েট ৪৭০, ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ৪৮৬, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ৬৪৬ এবং যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ৬৮৭। আরও কিছু পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় আছে ৮০১-৮৫০ থেকে নিচের ব্যান্ডে।
২৫ এপ্রিল ২০২৬ প্রকাশিত THE এশিয়া ২০২৬ সংস্করণে বুয়েট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একসঙ্গে ৩০১-৩৫০ ব্যান্ডে। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর ও যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ৪০১-৫০০ ব্যান্ডে। চুয়েট, কুয়েট ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ৫০১-৬০০ ব্যান্ডে, আর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ৬০১-৮০০ ব্যান্ডে।
ভর্তির গুচ্ছ পদ্ধতি
অনেক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় নিজের আলাদা পরীক্ষা নেয় না। তারা একটি গুচ্ছে যোগ দেয়, যেখানে পরীক্ষার্থী একটি পরীক্ষা দেন আর ফল সদস্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ভাগ করে নেয়।
- জিএসটি গুচ্ছ। সাধারণ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো একসঙ্গে পরীক্ষা নেয়। সদস্য সংখ্যা বদলেছে: চাহিদা-গবেষণা অনুযায়ী বছরভেদে ১৯ থেকে ২৪টি বিশ্ববিদ্যালয়। ইউনিট ভাগ এ (বিজ্ঞান), বি (মানবিক) ও সি (ব্যবসায় শিক্ষা)।
- কৃষি গুচ্ছ। নয়টি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় একটি পরীক্ষা ভাগ করে নেয়। ২০২৪-২৫ সেশনের পরীক্ষা হয়েছিল ২৫ অক্টোবর ২০২৪।
- প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়। বুয়েট, চুয়েট, কুয়েট ও রুয়েট নিজেদের পরীক্ষার তথ্য প্রকাশ করে। বিশেষ করে বুয়েটের সংখ্যা বাছাই-করা প্রার্থীর।
- নিজস্ব পরীক্ষার সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়। ঢাকা, জাহাঙ্গীরনগর, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা ও শাবিপ্রবির নিজ নামে প্রকাশিত হিসাব নিচে দেওয়া হলো।
এটা চাহিদা পড়ার সময় গুরুত্বপূর্ণ, কারণ গুচ্ছের সংখ্যা পুরো গুচ্ছের। কেউ বলতে পারেন না যে একটি সদস্য বিশ্ববিদ্যালয় ২,৭৩,৫৫৪টি আবেদন পেয়েছে। ২০২৫-২৬ সেশনে জিএসটি পরীক্ষার জন্য নথিভুক্ত সংখ্যা এটি, এবং সব সদস্য তা ভাগ করে নেয়।
ঢাকা ও জাহাঙ্গীরনগরে আসনপ্রতি আবেদন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন সেশনের হিসাব পাওয়া গেছে সংবাদ প্রতিবেদন ও ডেইলি ক্যাম্পাস থেকে। ২০২৩-২৪ সেশনে ৫,৯৬৫টি আসনের বিপরীতে আবেদন ছিল ২,৭৮,৯৯৬, অর্থাৎ আসনপ্রতি প্রায় ৪৬.৮। সেশনের নামটি অনুমান করা হয়েছে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি-মার্চের পরীক্ষার তারিখ দেখে। ২০২৪-২৫ সেশনে মোট আবেদন ৩,২৯,৪৩৮-এ পৌঁছায় এবং গণমাধ্যমে আসনপ্রতি ৫৫-এর বেশি বলা হয়, যদিও আসনসংখ্যা যাচাই করা যায়নি। ২০২৫-২৬ সেশনে ৬,১২৫ আসনের বিপরীতে আবেদন ২,৮৪,২১৬, আসনপ্রতি প্রায় ৪৬.৪। আগের বছরের চেয়ে আবেদন কমেছে আনুমানিক ৪৫,০০০।
ইউনিটভেদে ব্যবধান অনেক। বিজ্ঞান ইউনিটে (ক) অনুপাত ছিল ২০২৩-২৪-এ ৬৬, ২০২৪-২৫-এ ৭৭.৪ এবং ২০২৫-২৬-এ ৬৪.৩। কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিট (খ) ২০২৫-২৬-এ ৩৭.৫ এবং ব্যবসায় শিক্ষা (গ) ৩৩.৬। ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (আইবিএ) ১২০ আসনের জন্য ২০২৫-২৬-এ আবেদন ছিল ১১,১৪৭, অর্থাৎ আসনপ্রতি ৯২.৯। ওই সেশনে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে এটাই সর্বোচ্চ রেকর্ড করা অনুপাত।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউনিট আলাদা, আর অনুপাত আরও বেশি। ২০২৪-২৫ সেশনে ১,৮১৪ আসনের জন্য আবেদন ছিল ২,৬২,৪৫০, আসনপ্রতি প্রায় ১৪৪.৭। ২০২৫-২৬-এ ১,৮৪২ আসনের জন্য ২,১৯,৩৯৯, প্রায় ১১৯.১। সবচেয়ে বেশি প্রতিযোগিতা জীববিজ্ঞান ইউনিটে (ডি): ২০২৪-২৫-এ আসনপ্রতি ২৭৯.৯ এবং ২০২৫-২৬-এ ২২৬.৫। ইউনিট এ (গণিত, ভৌত বিজ্ঞান ও আইআইটি) ছিল ১৭১.৭, পরে ১৪১.৭। এ হিসাব দুই সেশনের সংবাদ প্রতিবেদন থেকে নেওয়া।
চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী ও শাবিপ্রবি
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ সেশনে একটি সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী ৪,১৬৫ আসনের জন্য মোট আবেদন ২,৩৩,৩২৭, আসনপ্রতি প্রায় ৫৬। এ ইউনিট (বিজ্ঞান) ৮০.২, বি ইউনিট (কলা ও মানবিক) ১০০.৪, সি ইউনিট (ব্যবসায় প্রশাসন) ৩৩.২ এবং ডি ইউনিট (সামাজিক বিজ্ঞান, আইন ও শিক্ষা) ৬০.৭।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৪-২৫ সেশনে ১,১০৯ আসনের জন্য আবেদন ছিল ১,০৭,৬৮৫, প্রতিবেদনে বলা হয়েছে আসনপ্রতি ৯৭। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ সেশনে এ ইউনিটে (মানবিক, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান) ১,৮৯৭ আসনের জন্য আবেদন ১,১১,৫১৪, আসনপ্রতি ৫৮.৮। সব ইউনিট মিলিয়ে আবেদন ২,৭২,৬২৫, কিন্তু মোট আসনসংখ্যা যাচাই করা যায়নি বলে সামগ্রিক অনুপাত দেওয়া হয়নি। শাবিপ্রবিতে ২০২৫-২৬ সেশনে এ ইউনিটে ৯৮৫ আসনের জন্য ৫২,৮২৩ আবেদন (আসনপ্রতি ৫৩.৬) এবং বি ইউনিটে ৫৮১ আসনের জন্য ২২,২৭২ (৩৮.৩)।
প্রকৌশল ও কৃষি
বুয়েটের সংখ্যা পড়তে বাড়তি সতর্কতা দরকার। সেখানে গোনা হয় বাছাই-করা প্রার্থী, মোট আবেদন নয়। ২০২৩-২৪ সেশনে ১,৩০৯ আসনের জন্য মূল পরীক্ষায় বসেছিলেন ৬,০৩৯ জন, যাঁরা প্রাথমিক পরীক্ষা দেওয়া ১৫,৪৪৩ জনের মধ্য থেকে বাছাই হয়েছিলেন: আসনপ্রতি ৪.৬। ২০২৫-২৬-এ ১,৩০৯ আসনের জন্য বাছাই-তালিকায় ছিলেন ১০,৩৫১ জন, আসনপ্রতি ৭.৯, পরীক্ষায় বসেন ৯,০৫১ জন। বুয়েটের ৭.৯ আর জাহাঙ্গীরনগরের ১১৯.১ একই জিনিস মাপে না।
অন্য প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৫-২৬ সেশনে প্রার্থীর সংখ্যা বেশি ছিল। কুয়েটে ১,০৬৫ আসনের জন্য আবেদন ২৪,৫২৭, আসনপ্রতি ২৩, যা রেকর্ড; আগের সর্বোচ্চ ছিল ১৩,১০০। রুয়েটে ১,২৩৫ আসনের জন্য আবেদন ১৮,২৭৭, আসনপ্রতি ১৪.৮, তবে পরীক্ষায় বসেন ১৫,৫৬৭ জন। চুয়েটে ৯৩১ আসনের জন্য প্রার্থী ১৩,৯৪২, আসনপ্রতি ১৫।
২০২৪-২৫ সেশনের কৃষি গুচ্ছ নিয়ে প্রথম আলোর প্রতিবেদনে নয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩,৭১৮ আসনের জন্য ৭৫,০১৭ আবেদনের কথা আছে, আসনপ্রতি প্রায় ২০.২। এটি গুচ্ছের অনুপাত। এটি পুরো দলের জন্য প্রযোজ্য, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো কোনো একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আলাদা করে নয়।
আসনপ্রতি অনুপাত পড়ার নিয়ম
কয়েকটি নিয়ম মানলে সংখ্যা বিভ্রান্ত করে না।
- সেশন দেখুন। ২০২৩-২৪ আর ২০২৫-২৬-এর অনুপাত ভিন্ন ভিন্ন ব্যাচের কথা বলে, তাই উলকা প্রতিটি সংখ্যার পাশে সেশন লেখে।
- পরীক্ষার ধরন মিলিয়ে তুলনা করুন। বাছাই-ভিত্তিক সংখ্যা (বুয়েট) আর উন্মুক্ত আবেদনের সংখ্যা (ঢাকা, জাহাঙ্গীরনগর) আলাদা পরিমাপ।
- গুচ্ছের সদস্যরা একটি সংখ্যা ভাগ করে নেয়। গুচ্ছের অনুপাতকে প্রতিটি সদস্যের মোটামুটি ন্যূনতম চাপ ধরুন, একক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কোর নয়।
- আবেদনকারী আর পরীক্ষার্থী এক নয়। রুয়েটের ১৮,২৭৭ আবেদনকারীর বিপরীতে ১৫,৫৬৭ জন পরীক্ষায় বসেছেন, ফারাকটা এখানেই; উপস্থিতি কম হলে বাস্তব চাপ কমে।
- ইউনিটের অনুপাত সামগ্রিক অনুপাত আড়াল করতে পারে। ঢাকার আইবিএ ইউনিটে ৯২.৯, পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪৬.৪।
র্যাঙ্ক আর প্রতিযোগিতা আলাদা প্রশ্ন
উঁচু র্যাঙ্ক আর উঁচু অনুপাত প্রায়ই একসঙ্গে চলে, কিন্তু দুটির অর্থ এক নয়। উলকা পাবলিক তালিকায় ১ নম্বরে বুয়েট, অথচ বাছাই-করা পরীক্ষা হওয়ায় এর অনুপাত তালিকার সবচেয়ে কমের মধ্যে। একই তালিকায় ৭ নম্বরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, যার ইউনিট-অনুপাত সংগৃহীত তথ্যে সবচেয়ে বেশি। কিউএস ও THE তালিকা গবেষণার একটি দিক যোগ করে, যা ভর্তির সংখ্যায় ধরা পড়ে না।
তথ্যে যেখানে ফাঁক আছে, লেখায় তা বলা হয়েছে। বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের যাচাই-করা আসনসংখ্যা গবেষণায় নেই, আর কৃষি গুচ্ছের বেশির ভাগ সদস্যের আলাদা সংখ্যা মেলেনি। পরের সেশনের সরকারি বিজ্ঞপ্তি এলে আসনতালিকা, ইউনিট এবং পরীক্ষাটি গুচ্ছভিত্তিক কি না দেখে নিয়ে তবেই ওপরের সংখ্যার সঙ্গে তুলনা করুন।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
বাংলাদেশের সেরা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় কোনটি?
৫ অক্টোবর ২০২৬ প্রকাশিত উলকা র্যাঙ্কিং ২০২৭-এর পাবলিক তালিকায় ১ নম্বরে বুয়েট, তার পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। ১ থেকে ১৪ নম্বর অবস্থান উলকার ভর্তি-প্রতিযোগিতা মূল্যায়নের প্রতিফলন। কিউএস ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র্যাঙ্কিং ২০২৭-এ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যৌথভাবে ৬০০ নম্বরে, বুয়েট ৭১১-৭২০ ব্যান্ডে।
কিউএস ২০২৭-এ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বুয়েটের অবস্থান কত?
১৮ জুন ২০২৬ প্রকাশিত কিউএস ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র্যাঙ্কিং ২০২৭-এ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যৌথভাবে ৬০০ এবং বুয়েট ৭১১-৭২০ ব্যান্ডে। কিউএস এশিয়া ২০২৬-এ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৩২ এবং বুয়েট ১৬৫।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসনপ্রতি কতজন আবেদনকারী?
প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০২৩-২৪-এ প্রায় ৪৬.৮ (সেশন পরীক্ষার তারিখ দেখে অনুমান করা), ২০২৪-২৫-এ ৫৫-এর বেশি (আসনসংখ্যা যাচাই হয়নি) এবং ২০২৫-২৬-এ প্রায় ৪৬.৪। ২০২৫-২৬-এ বিজ্ঞান ইউনিটে আসনপ্রতি ৬৪.৩ এবং আইবিএ ইউনিটে ৯২.৯।
কোন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় প্রতিযোগিতা সবচেয়ে বেশি?
প্রকাশিত তথ্যে ইউনিটভিত্তিক সর্বোচ্চ অনুপাত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের। এর জীববিজ্ঞান ইউনিটে আসনপ্রতি আবেদন ছিল ২০২৪-২৫-এ ২৭৯.৯ এবং ২০২৫-২৬-এ ২২৬.৫। সামগ্রিক অনুপাত ছিল ২০২৪-২৫-এ প্রায় ১৪৪.৭ এবং ২০২৫-২৬-এ ১১৯.১।
জিএসটি গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা কী?
সাধারণ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি দলের যৌথ ভর্তি পরীক্ষা। একটি পরীক্ষাই সব সদস্যের জন্য, আর সদস্য সংখ্যা বছরভেদে ১৯ থেকে ২৪টি। ২০২৫-২৬ সেশনে নথিভুক্ত আবেদন ২,৭৩,৫৫৪, যা পুরো গুচ্ছের।
বুয়েটে আসনপ্রতি আবেদনকারীর সংখ্যা এত কম কেন?
বুয়েটের সংখ্যা মোট আবেদনের নয়, বাছাই-করা প্রার্থীর। ২০২৫-২৬-এ ১,৩০৯ আসনের জন্য বাছাই-তালিকায় ছিলেন ১০,৩৫১ জন, আসনপ্রতি প্রায় ৭.৯। তাই এটি অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্মুক্ত আবেদনের সংখ্যার সঙ্গে তুলনীয় নয়।
কৃষি গুচ্ছ কী এবং প্রতিযোগিতা কেমন ছিল?
এটি নয়টি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ পরীক্ষা। ২০২৪-২৫ সেশনে প্রথম আলোর প্রতিবেদনে ৩,৭১৮ আসনের জন্য ৭৫,০১৭ আবেদনের কথা আছে, পুরো গুচ্ছের হিসাবে আসনপ্রতি প্রায় ২০.২।